গোলাপগঞ্জে যৌথ বাহিনীর অভিযান, ৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত আশরাফুল ইসলামকে গ্রেফতারের চেষ্টা

সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ১নং বাঘা ইউনিয়নে বঙ্গবন্ধু জাতীয় যুব পরিষদের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা ছাত্রলীগের অন্যতম সক্রিয় সদস্য মো. আশরাফুল ইসলাম এর বাড়িতে বাঘা ইউনিয়নের মজিদপুর গ্রামে যৌথ বাহিনী অভিযান চালিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আশরাফুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে তিনি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র জনতার হত্যাকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগে অভিযুক্ত। ওই ঘটনায় নিহতদের পরিবার ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়।
এ প্রেক্ষিতে গতকাল ১ এপ্রিল গভীর রাতে যৌথ বাহিনীর একটি টিম আশরাফুল ইসলামের নিজ বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানটি পরিচালনা করেন র্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। এলাকাবাসীর বর্ণনা অনুযায়ী, রাত ১১টার পর থেকেই বাঘা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। পরে রাত আনুমানিক ১২টার দিকে আশরাফুল ইসলামের বাড়ি ঘিরে ফেলে তারা অভিযান শুরু করে।
একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, যৌথ বাহিনীর সদস্যরা প্রায় এক ঘণ্টা ধরে বাড়ির বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালান। তবে আশরাফুল ইসলামকে তারা বাড়িতে পাননি। ধারণা করা হচ্ছে, অভিযান সম্পর্কে আগাম সংবাদ পেয়ে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। আশরাফুল ইসলাম সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাহেল সিরাজের খাস মানুষ ছিলেন।
অভিযান শেষে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা সাংবাদিকদের কোনো বক্তব্য না দিলেও স্থানীয়রা জানান, আশরাফুল ইসলামকে দ্রুত গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে সংঘটিত ছাত্র–জনতার হত্যাকাণ্ডে গোলাপগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মী ও সাধারণ মানুষ নিহত হন। এ ঘটনার পর থেকে আশরাফুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, এই অভিযান সরকারের চলমান আইনশৃঙ্খলা রক্ষার অংশ হিসেবে পরিচালিত হয়েছে এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থে দ্রুত আসামিকে গ্রেফতার করা অত্যন্ত জরুরি।


আপনার মতামত লিখুন