জোর করে চুল কেটে দেওয়া: মানবিক কাজের নামে অমানবিক আচরণ
তারিখ লোড হচ্ছে...
সর্বশেষ লাইভ ই-পেপার
       
খুঁজুন                
                               
বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ২ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

জোর করে চুল কেটে দেওয়া: মানবিক কাজের নামে অমানবিক আচরণ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১২:২৮ অপরাহ্ণ
জোর করে চুল কেটে দেওয়া: মানবিক কাজের নামে অমানবিক আচরণ

সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা যায় দুই জন লোক একজন বয়স্ক ব্যক্তিকে জোরপূর্বক চুল দাঁড়ি কেটে দিচ্ছে, এক পর্যায়ে বৃদ্ধ লোকটি হাল ছেড়ে দিয়ে বলছেন ‘আল্লাহ তুই দেহিস’।

ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলে সেখানে এই ঘটনায় লোকজনকে পক্ষে বিপক্ষে মন্তব্য করতে দেখা যায়। যাতে অনেকে বলছেন, সাধু সন্ন্যাসীদের ওপর এমন হামলার বিচার হওয়া উচিৎ, আবার অনেকে বলছেন এটা মানবিক কাজের একটা অংশ।

ভিডিওতে যা দেখা গেছে : ভিডিওতে দেখা যায়, একটি গ্রামের বাজারে দুইজন ব্যক্তি একজন বয়স্ক ব্যক্তিকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছে এবং এক পর্যায়ে জোরপূর্বক তার চুল ও দাঁড়ি কেটে দিচ্ছে।

যে দুই ব্যক্তি বৃদ্ধ লোকের চুল দাঁড়ি কেটে দিচ্ছিলেন, তাদের পরনে পাঞ্জাবি এবং মাথায় পাগড়ি ছিল। এছাড়া একটি ভেস্ট পরা ছিল যাতে একটি প্রতিষ্ঠানের লোগোও দেখা যাচ্ছিলো। তারা জোর করে ওই বৃদ্ধকে এক জায়গায় বসিয়ে ‘ট্রিমার’ বা চুলদাড়ি কাটার মেশিন দিয়ে তার মাথায় চুল কাটতে থাকে। ওই সময় আশেপাশে আরো স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়, যারা ময়মনসিংহের স্থানীয় ভাষায় কথা বলছিলেন।

কোথায়, কীভাবে ঘটেছে এই ঘটনা : খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই ঘটনাটি ঘটেছে প্রায় চার মাস আগে ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার কাশিগঞ্জ বাজারে। যে বৃদ্ধের চুলদাঁড়ি কেটে দেওয়া হয়, তার নাম হালিম উদ্দিন আকন্দ এবং তিনি প্রায় ৩৪ বছর ধরে এমন লম্বা চুল-দাঁড়ি রাখেন। তিনি কাশিগঞ্জের কোদালিয়া এলাকার আপন পাড়ার বাসিন্দা।

হালিম উদ্দিন আকন্দ স্থানীয়ভাবে বেশ পরিচিত এবং সারাদিন সন্ন্যাসীর বেশে এলাকায় ঘুরে বেড়ান, নানান ধরনের তাবিজ-কবজ, জটিবুটির ওষুধ দেওয়া ও ঝাড়ফুঁক করেন।

হালিম উদ্দিনের বড় ছেলে জানান, মাস চারেক আগে একদিন কয়েকজন লোক আসেন আলিম উদ্দিনকে খুঁজতে। জানান তারা হালিম উদ্দিনের কাছ থেকে ঝাড়ফুঁকের চিকিৎসা করাতে এসেছেন।

হালিম উদ্দিনের ছেলে বলেন, ‘মটরসাইকেল দিয়ে আসছে বিকেল টাইমে, বলে চাচা তারা আফনারে খুঁজতাছে যে তারার রোগী আছে, আফনে গিয়ে তারার রোগীটি ঝাইড়া দেওন লাগবো, বাপে কইছে বাবা আমি অহন বাড়ি আইয়া পড়ছি, আজ রোগী ঝাঁড়তাম যাইতাম না, কালকে দেমানে।’

হালিম উদ্দিনের এই কথা শুনে মোটরসাইকেলে করে আসা লোকজন বলে তাহলে কাল একটু সকাল সকাল ঘর থেকে বের হইয়েন। এ কারণে পরদিন সকাল আটটার আগেই রোগীকে ঝাড়ফুঁক করার উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হয়ে যান।

ভুক্তভোগী হালিম উদ্দিন আকন্দ যা বলেছেন

সকালে রোগী ঝাড়ফুঁক করতে লালমা গ্রামে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হয়ে প্রথমেই স্থানীয় কাশিগঞ্জ বাজারে যান হালিম উদ্দিন আকন্দ। সেখানে একটি পরিচিত দোকানে বসে ধূমপান করেন। দোকান থেকে বের হওয়ার পর কোদালিয়া গ্রামের একজন লোক তাকে অনুসরণ করতে থাকে এবং মোবাইলে অন্য আরেকজনকে কল দেয়।

কিছু দূর আগানোর পর কয়েকজন হালিম উদ্দিন আকন্দের পথ রোধ করে এবং টানা হেঁচড়া করতে থাকে। পরে কয়েকজন লোক মিলে জোর করে চুল কেটে দেয় এবং দাঁড়ি কেটে ছোট করে দেয়।

হালিম উদ্দিন আকন্দ বলেন, ‘চৌত্রিশ বছর হইছে চুলটা, সিলেট শাহজালালে গেছিলাম, ওখান থেকে আইয়া চুলে অতোখানি জট হইছে। ঠ্যাঙের লামাত গেছিল-গা জট, জট ফালাইয়া দিয়া অহন আমার সমস্যা, আমি অখন ঘরত থেকা বাইর হইতে পারি না।’

জটা চুলদাড়ি কেটে ফেলার পর অস্বস্তিতে ভুগছেন বলে জানান হালিম উদ্দিন। তাই এখন আর ঘর থেকে খুব একটা বের হন না, বাজারেও যান না।

চুল-দাঁড়ি কাটার ঘটনা যখন ঘটছিল, তখন কাশিগঞ্জ বাজারে স্থানীয় লোকজনও ছিলেন। তাদের একজন হাসিব আহমেদ জুয়েল। তিনি বলেন, মোট তিন-চার জন লোক মিলে জোরপূর্বক হালিম উদ্দিনের চুল কাটেন। এর মধ্যে একজন ভিডিও করার দায়িত্বে ছিলেন। আর বাকিরা হালিম উদ্দিনকে সামাল দিচ্ছিলেন।

হাসিব আহমেদ জুয়েল বলেন, ‘আমরা ইউটিউব ফেসবুকে দেখেছি, এই রকম পাগল, অসুস্থ লোকজনকে মানবিক লোকজন চুলদাড়ি কেটে দেয়, গোসল করিয়ে দেয়। কিন্তু উনি তো ওই রকম কেউ না।’

ভিডিওর বিভিন্ন খুঁটিনাটি দেখে অনুসন্ধানে কারা হালিম উদ্দিন আকন্দের চুল কাটার ঘটনার সাথে জড়িত এবং কেন তারা এই কাজ করলো তা জানা যায়।

পরে দেখা যায় ফেসবুক ভিত্তিক হিউম্যান সার্ভিস বাংলাদেশ নামে একটি সংগঠনের লোকজন হালিম উদ্দিন আকন্দের চুলদাড়ি কেটে দেয়। হিউম্যানিটি ফার্স্ট বিডি নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলও আছে তাদের।

যেখানে বিভিন্ন সময় জোর করে রাস্তাঘাটে অসুস্থ ও অপ্রকৃতিস্থ লোকজনের চুল দাঁড়ি কেটে, তাদের গোসল করিয়ে পরিষ্কার জামা কাপড় পরানো হচ্ছে এমন ভিডিও আছে।

সংগঠনটি ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে পরিচালিত হয় এবং ২০২৪ সালের শেষের দিকে তারা কার্যক্রম শুরু করে। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতাদের একজন মুফতি সোহরাব হোসেন আশরাফি।

তিনি জানান, মূলত মানবিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিভিন্ন জেলায় গিয়ে অসুস্থ ও অপ্রকৃতিস্থ লোকজনকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করেন। এটাকে তারা সেবা হিসেবেই দেখেন। কিন্তু জোর করে এই কাজ করার উচিত কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তারা জোরপূর্বক কারও চুলদাড়ি কাটেন না।’

তবে তাদের অনেক ভিডিওতে জোর জবরদস্তি করে লোকজনের চুলদাড়ি কাটা ও গোসল করাতে দেখা গেছে। হালিম উদ্দিন আকন্দের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে, সোহরাব হোসেন আশরাফি ও তার সঙ্গী জোর করে চুলদাড়ি কাটছেন, এক পর্যায়ে তাদের থামাতে না পেরে হালিম উদ্দিন আকন্দকে বলতে শোনা যায়- ‘আল্লাহ তুই দেহিস’।

সোহরাব বলেন, ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে কাশিগঞ্জ গিয়ে তারা হালিম উদ্দিনের চুল- দাঁড়ি কেটে দিয়ে আসেন। স্থানীয় একজন ব্যবসায়ী তাদের এই কাজ করতে যেতে বলেছেন বলে জানান তিনি। ‘আমাদেরকে ফোন দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং যারা ফোন দিয়েছেন তারা উনার (হালিম উদ্দিন আকন্দ)-এর আত্মীয় স্বজন। একজন ব্যবসায়ী বলেছেন, উনি আমার চাচা হন, উনি সামনে দিয়ে গেলে আমাদের খারাপ লাগে। অনেকদিন ধরে উনাকে পরিষ্কার করার চেষ্টা করছি, পারিনি। পরে আমরা তাদের একটা সময় দিই।’

মূলত স্থানীয়দের ডাকে সাড়া দিতে মানবিক কাজের অংশ হিসেবে তারা কাশিগঞ্জ গিয়েছেন বলে দাবি করেন মুফতি সোহরাব হোসেন আশরাফি। হালিম উদ্দিনের ছেলের দাবি, তারা কাউকে তার বাবার চুলদাড়ি কাটতে আসতে বলেননি। তবে স্থানীয় কেউ এতে জড়িত থাকতে পারে।

এদিকে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আরো ভিডিওতে দেখা যায়, লম্বা ও জটা চুল দাড়িওয়ালা লোকদের চুলদাড়ি কেটে দেওয়া হচ্ছে। যাদের অনেকে অপ্রকৃতিস্থ বা অসুস্থ আবার অনেকে বিভিন্ন ত্বরিকা ও মতবাদের বিশ্বাসী। তাই কারও ইচ্ছার বিরুদ্ধে চুল-দাঁড়ি কেটে দেওয়া এবং তা সামাজিক মাধ্যমে প্রচার কতটুকু আইনসিদ্ধ, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে, এক বিবৃতিতে আইন ও সালিশ কেন্দ্র বলেছে, বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩১ প্রতিটি নাগরিককে আইনের আশ্রয়ে মর্যাদাপূর্ণ জীবন যাপনের অধিকার দিয়েছে। অনুচ্ছেদ-৩১ জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার নিশ্চয়তা প্রদান করেছে এবং অনুচ্ছেদ ৩৫ কারও প্রতি নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণ নিষিদ্ধ করেছে। প্রকাশ্যে জোর করে চুল কেটে দেওয়া কেবল ভোক্তভুগীর মৌলিক অধিকার ও ব্যক্তিস্বাধীনতার লঙ্ঘন নয়, বরং তার মর্যাদার উপর সরাসরি আঘাত।

রহমানিয়া টুকা মাদ্রাসায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান: আল্লামা আব্দুর রহমান বর্ণীর স্মারক গ্রন্থ প্রকাশের ঘোষণা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৪১ অপরাহ্ণ
রহমানিয়া টুকা মাদ্রাসায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান: আল্লামা আব্দুর রহমান বর্ণীর স্মারক গ্রন্থ প্রকাশের ঘোষণা

স্টাফরিপোর্টার:: মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার বর্ণীতে আয়োজিত এক সংবর্ধনা ও মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেছেন, মানবকল্যাণে সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে। তারা বলেন, অসহায় ও আর্তমানবতার সেবার মাধ্যমে যেমন মহান স্রষ্টার সন্তুষ্টি অর্জন করা যায়, তেমনি পাওয়া যায় মানুষের ভালোবাসা। মানবসেবাকে ইবাদতের সঙ্গে তুলনা করে বক্তারা আরও বলেন, এতিম-অসহায়দের সহায়তা এবং দ্বীনি শিক্ষার প্রসারে কাজ করলে ইহকাল ও পরকালে কল্যাণ অর্জিত হয়। মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর চেয়ে বড় আনন্দ আর কিছু নেই বলেও উল্লেখ করেন তারা।শুক্রবার বিকেলে পীরে কামেল ওস্তাজুল উলামা আল্লামা আব্দুর রহমান বর্ণী (রহ.) প্রতিষ্ঠিত রহমানিয়া টুকা হাফিজিয়া দাখিল মাদ্রাসা ও এতিমখানায় এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ও স্মারক গ্রন্থ প্রকাশ উপলক্ষে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
মাওলানা মোহাম্মদ আব্দুল আজিজের সভাপতিত্বে এবং মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল আলিম ও সহ-সুপার মাহফুজুর রহমানের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত ব্যক্তি ছিলেন যুক্তরাজ্যপ্রবাসী, লন্ডন অক্সফোর্ড জামে মসজিদের খতিব ও বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন মাওলানা হেলাল আহমদ খান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ আঞ্জুমানে আল ইসলাহ’র মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা এ. কে. এম. মনোয়ার আলী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হবিবপুর কেশবপুর কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হাকিম, দৈনিক রূপালী বাংলাদেশের সিলেট ব্যুরো প্রধান কবি সালমান ফরিদ এবং মাথিউরা ফাজিল মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক মুফতি তকি উদ্দিন।আনন্দ টেলিভিশনের সিলেট প্রতিনিধি তাহের আহমদ।
বিয়ানীবাজার সহকারী শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হোসেন আহমদ, সায়রা মুক্তাদির দাখিল মাদ্রাসার সুপার আব্দুল হামিদ মাস্টার সফর উদ্দিনসহ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে আল্লামা আব্দুর রহমান বর্ণী (রহ.)-এর জীবন ও কর্ম নিয়ে একটি স্মারক গ্রন্থ প্রকাশের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। আয়োজকরা জানান, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির আগেই গ্রন্থটি প্রকাশ করা হবে ।

ওসমানীনগরে দয়ামির আ.লীগ নেতার বাবা দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ ‎

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২৫, ৭:৪৯ অপরাহ্ণ
ওসমানীনগরে দয়ামির আ.লীগ নেতার বাবা দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ ‎

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার দয়ামির ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কদরিছ  মিয়া প্রায় এক বছর ধরে নিখোঁজ রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। তিনি বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন ওসমানীনগর উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ছাত্রলীগ নেতা সেলিম আহমদের পিতা।


‎পরিবার জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের পটপরিবর্তনের পর তাদের বাড়িতে হামলা হয়। রাজনৈতিক উত্তেজনা ও একাধিক মামলার কারণে এ সময় সেলিম আহমদ ও তার বাবা আত্মগোপনে ছিলেন। পরিবারের দাবি প্রায় এক বছর ধরে তিনি নিখোঁজ রয়েছেন। তার মোবাইল ফোন বন্ধ, আত্মীয়দের বাসাতেও নেই। তিনি জীবিত না মৃত এ নিয়েও নিশ্চিত হতে পারছেননা তারা।

‎স্থানীয় সূত্র জানায়, কদরিছ মিয়ার ছেলে ছাত্রলীগের ক্যাডার সেলিম আহমদ একাধিক মামলার আসামি। ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকে উঠে আসা সেলিম সিলেট সিটির সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ারুজ্জামানের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত। রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শন ও বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা বাড়তে থাকে। ৫ আগস্টের ঘটনার পর থেকে সেও পলাতক।

‎পরিবারের সদস্যরা জানান,,,নিখোঁজের ঘটনায় থানায় অভিযোগ করার কথা ভাবলেও নিরাপত্তাহীনতা ও প্রতিশোধের আশঙ্কায় পরিবার এখনো অভিযোগ করতে পারেনি। পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রতিদিনই তাদের উদ্বেগ বাড়ছে কদরিছ মিয়া জীবিত না মৃত, কিছুই জানা যাচ্ছে না।

‎এই বিষয়ে ওসমানীনগর উপজেলা প্রশাসনের কাছে জানতে চাইলে তারা বলে আমরা শুনেছি এরকম একজনকে পাওয়া যাচ্ছেনা,তবে লিখিত কোন অভিযোগ পাই নাই। অভিযোগ পেলে প্রোয়োজনিয় ব্যবস্হা গ্রহন করা হবে।

সিলেট-৪ আসনেই আরিফ চৌধুরী চূড়ান্ত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৫, ১১:১৪ অপরাহ্ণ
সিলেট-৪ আসনেই আরিফ চৌধুরী চূড়ান্ত

সিলেট-৪ আসনেই আরিফ চৌধুরী চূড়ান্ত

সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে সিলেট-৪ আসনে বিএনপির প্রাথী হচ্ছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আরিফুল হক চৌধুরী।

বুধবার রাতে আরিফুল হক চৌধুরী নিজেই এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।তবে বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ব্যাপারে কোন ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

গত সোমবার দেশের অন্যান্য আসনের সাথে সিলেটের ৪ টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে বিএনপি। তবে সিলেট-৪ ও সিলেট-৫ আসনে সেদিন কোন প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি।

বিএনপি সূত্রে জানা যায়, আরিফুল হককে দল থেকে একাধিকবার সিলেট-৪ আসনে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। তবে তাতে সম্মত হননি আরিফ। তিনি সবসময়ই সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে সিলেট-১ আসন অথবা সিঠের সিটি নির্বাচনের মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে আসছিলেন।সর্বশেষ সোমবার বিভিন্ন আসনে দলীয় প্রার্থী ঘোষণার পর মঙ্গলবার বিএনপির শীর্ষ নেতবেৃন্দের পক্ষ থেকে জরুরী তলব দিয়ে আরিফকে ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে মঙ্গলবার ও বুধবার আরিফের সাথে দফায় দফায় বৈঠক করেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। এসব বৈঠকে আরিফুল হককে সিলেট-৪ আসনে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি প্রথমে সম্মত হননি বলে জানা গেছে। এরপর বুধবার রাতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তাঁকে বাসায় ডেকে পাঠান।রাতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বাসভবনে চেয়ারপারসন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে আরিফুল হক ওই আসনে নির্বাচন করতে সম্মত হন।সিলেট-৪ আসনে প্রার্থী হওয়ার কথা জানিয়ে ঢাকা থেকে রাতে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, “চেয়ারপারসন আমাদের জাতীয় মুরুব্বী। তাঁর নির্দেশে আমি সিলেট-৪ আসনে নির্বাচন করতে সম্মত হয়েছি। দলের প্রয়োজনে আমি বারবার নির্দেশ পালন করে আসছি। আজকের সিলেট-৪ আসনে নির্বাচন করার আদেশ মাথা পেতে মেনে নিয়েছি।