প্রাথমিকে ফের বৃত্তি পরীক্ষা নিয়ে বিতর্ক

শাহাদাত, ঢাকার আজমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এ বছর প্রাথমিকে বৃত্তি চালু হলে পরীক্ষায় বসবে পঞ্চম শ্রেণির এই মেধাবী ছাত্র। সম্প্রতি তার স্কুলে গেছে শাহাদাতের চোখেমুখে স্পষ্ট দেখা যায় লক্ষ্যভেদের সেই প্রত্যাশা।
শাহাদাতের মতো একই প্রত্যাশা তার আরও অনেক সহপাঠীর। তার মধ্যে কারও কারও ইউনিফর্ম আর স্কুলের জুতা কেনা হয় না বহুদিন! কারণ, দারিদ্র্য আর শিক্ষাঙ্গণে যথেষ্ট আর্থিক অনুদান না পাওয়া
।
তিনি বললেন, মাঠ পর্যায়ে এটার (বৃত্তি পরীক্ষা) বেশ চাহিদা আছে। আমাদের দেশীয় যে প্রেক্ষাপট, সামগ্রিকভাবে এই মুহূর্তে আমাদের মনে হয়েছে যে এটি আমাদের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক সবার মধ্যে এক ধরনের প্রণোদনা তৈরি করবে। কিন্তু যদি আদর্শ বলেন, আদর্শ অবস্থায় আমরা স্কুলগুলোকে নিয়ে যাই, তখন এই ধরনের আদাবৃত্তির প্রয়োজন হবে না।
২১ ডিসেম্বর শুরু হতে যাওয়া বৃত্তি পরীক্ষায় কিন্ডারগার্টেন বা কেজি স্কুলের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। একে বৈষম্যমূলক বলছেন কেউ কেউ। তবে নীতি নির্ধারক বলছেন ভিন্ন কথা।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান বলেছেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যে বাচ্চারা পড়াশোনা করে অধিকাংশই প্রান্তিক পর্যায়ের। কিন্তু কিন্ডাগার্ডেন স্কুলে আর্থিকভাবে সচ্ছল পরিবারের সন্তানরা পড়াশোনা করে। কিন্ডারগার্ডেন স্কুলগুলোতে ক্লাস থ্রি থেকে ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত তারা কিন্তু বৃত্তি পরীক্ষা অব্যাহত রেখেছে। সেখানে আমাদের এই প্রান্তিক পর্যায়ের বাচ্চাদের আর্থিক প্রণোদনা দিয়ে তাদেরকে লেখাপড়ার প্রতি আরও বেশি উৎসাহিত করার জন্যই এই বৃত্তি পরীক্ষা চালু করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে প্রাথমিকে বৃত্তি পরীক্ষা নেয়া বন্ধ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর পরিবর্তে চালু করে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা (পিইসি)। এ পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতেই শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেয়া হতো। চাপ কমাতে পরে বন্ধ হয় সেই পরীক্ষাও।
থানা কিংবা উপজেলা অনুসারে সর্বোচ্চ নম্বরধারীকে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি দেয়া হয়। এছাড়া ইউনিয়ন, পৌরসভা ও ওয়ার্ডভিত্তিক সাধারণ বৃত্তি দেয়া হয়। তবে প্রতিটি স্কুল থেকে শতকরা ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী বৃত্তি পরীক্ষা দিতে পারেন।


আপনার মতামত লিখুন