একটি দলের কারণে সংস্কার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে: সিলেটে জামায়াত নেতা আজাদ
তারিখ লোড হচ্ছে...
সর্বশেষ লাইভ ই-পেপার
       
খুঁজুন                
                               
বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ২ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

একটি দলের কারণে সংস্কার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে: সিলেটে জামায়াত নেতা আজাদ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৭:৫৪ অপরাহ্ণ
একটি দলের কারণে সংস্কার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে: সিলেটে জামায়াত নেতা আজাদ

সংস্কারবিহীন নির্বাচন জুলাই আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছেন মন্তব্য করেছেন, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল  ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ।

তিনি বলেন, নির্বাচন বানচাল আমরা করতে চাই না, যারা সংস্কারকে বাধাগ্রস্ত করছে আর পিআর চায় না তারাই প্রকৃতপক্ষে নির্বাচন বানচাল করতে চায়।

শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় নগরীর রেজিস্ট্রারি মাঠে জুলাই সনদের আইনীভিত্তি, পিআর পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচনসহ ৫ দফা দাবীতে সিলেট মহানগর জামায়াতের বিক্ষোভ সমাবেশের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পিআর পদ্ধতি নিয়ে সমাধান আলোচনার টেবিলে না হলে গণভোটের ব্যবস্থার কথাও জানান তিনি।

হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, ফ্যাসিবাদের শাসনামলে যা ঘটেছে বর্তমান শাসমানলে সরকার না করলেও কোনো কোনো দল চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসে লিপ্ত হয়েছে। এক্ষেত্রে সরকার কঠোর হস্তে দমনের কথা থাকলেও ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।

বিশেষ একটি দলের কারণে সংস্কার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংস্কার জামায়াতের দলীয় এজেন্ডা নয়, সংস্কার জনগণের আকাঙ্ক্ষা।

আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন পিআর পদ্ধতিতে দিতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘এ বছরের ৫ আগস্ট বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সরকার জুলাই ঘোষণা পত্র দিয়েছে। সরকার সেই ঘোষণা পত্রে জুলাই স্পিড ধারণ করার পরিবর্তে বিশেষ জাতি-গোষ্টির এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছে। সেই ঘোষণা পত্রে শাপলা চত্বরের গণহত্যার কোনো উল্লেখ নেই, পিলখানায় সেনা হত্যার কথা উল্লেখ নেই, শেখ হাসিনার আমলের গুম-খুন ও জুডিসিয়ালের কথা উল্লেখ নেই। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ওয়াদা করেছিল জুলাই সনদ হবে ঐক্যমতের ভিত্তিতে। ৮৪টি বিষয়ে ঐক্যমত হয়েছে কিন্তু কিছু কিছু বিষয়ে দুই-একটি দল হস্তক্ষেপ করেছে। এই সরকারের ভূমিকা আমরা নিরপেক্ষ দেখিনি।’

সংস্কার কমিশনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সরকার যেই প্রতিশ্রুতি দেশবাসীকে দিয়েছিল জুলাই চেতনার ভিত্তিতে এবং যে জনআকাঙ্খা তৈরি হয়েছে সেই আকাঙ্খা হচ্ছে বাংলাদেশকে আমরা সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। কিন্তু দুর্ভাগ্য হলেও সত্য, ফ্যাসিবাদের আমলে যা ঘটেছে তা বর্তমান সরকারের শাষনামলে কোনো কোনো দল নিজের দলের লোকদের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছে। বিভিন্ন বাজার-হাট দখল, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসীতে লিপ্ত হয়েছে। সেই জায়গা থেকে বর্তমান সরকার তার ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংস্কারের শুরুতে প্রথমে ১১টি কমিশন, পরে ৬টি নিয়ে ঐক্যমত কমিশন করেছেন। দীর্ঘ তিন মাস পর এখনও সংস্কারের জন্য বৈঠকের পর বৈঠক হচ্ছে কিন্তু বিশেষ একটি দলের হস্তক্ষেপে সংস্কার বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে।’

আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যারা জুলাই চেতনাকে স্বীকার না করে সংস্কারে বাধা প্রদান করতে চায় তারাই প্রকৃতভাবে নির্বাচন বানচাল করতে চায়। দুই একটি দল পিআর পদ্ধতি মানেন না, সংস্কার পদ্ধতিও মানেন না এবং আইনি ভিত্তিও তারা চান না তাহলে ফেব্রুয়ারীর নির্বাচন কিসের ভিত্তিতে করবেন। সেই শেখ হাসিনা আমলের নির্বাচন, দিনের ভোট রাতে দেওয়ার নির্বাচন, ২০১৪ সালের বিনা প্রতিদ্ধন্ধিতার নির্বাচন, ২০২৪ সালের ডামি নির্বাচন। এই নির্বাচন আর হবে না। জুলাই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে সেই অপশাসনের কবর রচিত হয়েছে। ফ্যাসিবাদ বাংলাদেশ থেকে উৎখাত হয়েছে। সেই বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ আমলের নির্বাচন আর হবে না। যদি সুষ্ঠু নির্বাচন চান, তাহলে সংস্কারকৃত আইনের ভিত্তিতে নির্বাচন দেন। পুরনো পদ্ধতির নির্বাচন বাতিল করেন। বাংলাদেশেও পিআর পদ্ধতির নির্বাচন করতে হবে।

হামিদুর রহমান আজাদ আরও বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামের সরকারের মাধ্যমে আমরা রাষ্ট্রকে নতুন পথ দেখাবো। বাংলাদেশ নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থার মাধ্যমে সামনে এগিয়ে যাবে। এই আন্দোলন সংগ্রামে যারা জীবন দিয়েছেন, আহত হয়েছেন তাদের হত্যাকারীদের বিচার করা হবে। দুর্নীতি ও লুটপাটের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে যারা ধ্বংস করে দিয়েছে সেই দুর্নীতিবাজদের বিচার করা হবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মাধ্যমে বাংলাদেশে আমরা ইতিহাসের সেরা নির্বাচন উপহার দেব। দেশের মানুষ উৎসবমূখর পরিবেশে ভোট দান করবে। আগামী ফেব্রুয়ারীতে জাতীয় নির্বাচনে মানুষ উৎসব পালন করবে। আগামী নির্বাচন উপলক্ষে সরকার সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে, বিচার কার্যক্রমসহ নির্বাচনী টাইমলাইন ঘোষণা করেছে।’

জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে, মহানগর নায়েবে আমীর ড. নূরুল ইসলাম বাবুল ও সেক্রেটারী মোহাম্মদ শাহজাহান আলীর যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য, সিলেট জেলা আমীর ও সিলেট-১ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান।

বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে রেজিস্ট্রারি মাঠ থেকে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি রেজিস্ট্রারি মাঠ থেকে শুরু হয়ে নগরীর প্রধান প্রধান পয়েন্ট প্রদক্ষিণ শেষে আম্বরখানা পয়েন্টে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়। মিছিলে মহানগর ও বিভিন্ন থানা-ওয়ার্ড-ইউনিটের হাজার হাজার জনশক্তি খন্ড খন্ড মিছিল সহকারে অংশ নেন।

মিছিল পূর্ব রেজিস্ট্রারি মাঠের বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- সিলেট জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী, সাবেক জৈন্তাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও সিলেট-৪ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী জয়নাল আবেদীন, মহানগর সহকারী সেক্রেটারী জাহেদুর রহমান চৌধুরী, মাওলানা ইসলাম উদ্দিন, সাবেক দক্ষিণ সুরমা উপজেলা চেয়ারম্যান ও সিলেট-৩ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা লোকমান আহমদ, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী মাওলানা মাসুক আহমদ, বিশ^নাথ উপজেলা আমীর নিজাম উদ্দিন সিদ্দিকী, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন সিলেট মহানগর সভাপতি এডভোকেট জামিল আহমদ রাজু, বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিল সিলেটের সভাপতি এডভোকেট আলিম উদ্দিন ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সিলেট মহানগর সভাপতি শাহীন আহমেদ প্রমূখ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য, সিলেট জেলা আমীর ও সিলেট-১ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্খা বাস্তবায়নে জুলাই সনদের আইনী ভিত্তি ও পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনসহ জামায়াত ঘোষিত ৫ দফা দাবি পূরণের বিকল্প নেই। ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের মাধ্যমে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার পতন হয়েছে। নতুন করে আর কাউকে ফ্যাসিবাদী হওয়ার সুযোগ দেয়া হবে না।

সভাপতির বক্তব্যে সিলেট মহানগর আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আশা-আকাঙ্খার প্রকৃত বাস্তবায়নের স্বার্থে জুলাই সনদের আইনী ভিত্তি প্রদান শুধু জামায়াত নয়, দেশপ্রেমিক ছাত্র-জনতার দাবী। অন্তর্র্বতী কালিন সরকারকে ছাত্র-জনতার আশা আকাঙ্খা বাস্তবায়নে জুলাই সনদের আইনী ভিত্তি, পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের সকল গণহত্যার বিচার, পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনসহ জামায়াত ঘোষিত ৫ দফা দাবী মেনেই জাতীয় নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে। অন্যথায় জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের রক্তের সাথে কোন উপহাস ছাত্র-জনতা মেনে নিবেনা।

জামায়াতের ৫ দফা দাবিগুলো হলো-
১. জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে;
২. আগামী জাতীয় নির্বাচনে সংসদের উভয় কক্ষে পিআর পদ্ধতি চালু করতে হবে;
৩. অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে;
৪. ফ্যাসিস্ট সরকারের সব জুলুম ও গণহত্যা, দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করতে হবে;
৫. স্বৈরাচারের দোসর জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে হবে।

রহমানিয়া টুকা মাদ্রাসায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান: আল্লামা আব্দুর রহমান বর্ণীর স্মারক গ্রন্থ প্রকাশের ঘোষণা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৪১ অপরাহ্ণ
রহমানিয়া টুকা মাদ্রাসায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান: আল্লামা আব্দুর রহমান বর্ণীর স্মারক গ্রন্থ প্রকাশের ঘোষণা

স্টাফরিপোর্টার:: মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার বর্ণীতে আয়োজিত এক সংবর্ধনা ও মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেছেন, মানবকল্যাণে সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে। তারা বলেন, অসহায় ও আর্তমানবতার সেবার মাধ্যমে যেমন মহান স্রষ্টার সন্তুষ্টি অর্জন করা যায়, তেমনি পাওয়া যায় মানুষের ভালোবাসা। মানবসেবাকে ইবাদতের সঙ্গে তুলনা করে বক্তারা আরও বলেন, এতিম-অসহায়দের সহায়তা এবং দ্বীনি শিক্ষার প্রসারে কাজ করলে ইহকাল ও পরকালে কল্যাণ অর্জিত হয়। মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর চেয়ে বড় আনন্দ আর কিছু নেই বলেও উল্লেখ করেন তারা।শুক্রবার বিকেলে পীরে কামেল ওস্তাজুল উলামা আল্লামা আব্দুর রহমান বর্ণী (রহ.) প্রতিষ্ঠিত রহমানিয়া টুকা হাফিজিয়া দাখিল মাদ্রাসা ও এতিমখানায় এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ও স্মারক গ্রন্থ প্রকাশ উপলক্ষে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
মাওলানা মোহাম্মদ আব্দুল আজিজের সভাপতিত্বে এবং মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল আলিম ও সহ-সুপার মাহফুজুর রহমানের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত ব্যক্তি ছিলেন যুক্তরাজ্যপ্রবাসী, লন্ডন অক্সফোর্ড জামে মসজিদের খতিব ও বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন মাওলানা হেলাল আহমদ খান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ আঞ্জুমানে আল ইসলাহ’র মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা এ. কে. এম. মনোয়ার আলী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হবিবপুর কেশবপুর কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হাকিম, দৈনিক রূপালী বাংলাদেশের সিলেট ব্যুরো প্রধান কবি সালমান ফরিদ এবং মাথিউরা ফাজিল মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক মুফতি তকি উদ্দিন।আনন্দ টেলিভিশনের সিলেট প্রতিনিধি তাহের আহমদ।
বিয়ানীবাজার সহকারী শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হোসেন আহমদ, সায়রা মুক্তাদির দাখিল মাদ্রাসার সুপার আব্দুল হামিদ মাস্টার সফর উদ্দিনসহ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে আল্লামা আব্দুর রহমান বর্ণী (রহ.)-এর জীবন ও কর্ম নিয়ে একটি স্মারক গ্রন্থ প্রকাশের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। আয়োজকরা জানান, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির আগেই গ্রন্থটি প্রকাশ করা হবে ।

ওসমানীনগরে দয়ামির আ.লীগ নেতার বাবা দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ ‎

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২৫, ৭:৪৯ অপরাহ্ণ
ওসমানীনগরে দয়ামির আ.লীগ নেতার বাবা দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ ‎

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার দয়ামির ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কদরিছ  মিয়া প্রায় এক বছর ধরে নিখোঁজ রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। তিনি বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন ওসমানীনগর উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ছাত্রলীগ নেতা সেলিম আহমদের পিতা।


‎পরিবার জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের পটপরিবর্তনের পর তাদের বাড়িতে হামলা হয়। রাজনৈতিক উত্তেজনা ও একাধিক মামলার কারণে এ সময় সেলিম আহমদ ও তার বাবা আত্মগোপনে ছিলেন। পরিবারের দাবি প্রায় এক বছর ধরে তিনি নিখোঁজ রয়েছেন। তার মোবাইল ফোন বন্ধ, আত্মীয়দের বাসাতেও নেই। তিনি জীবিত না মৃত এ নিয়েও নিশ্চিত হতে পারছেননা তারা।

‎স্থানীয় সূত্র জানায়, কদরিছ মিয়ার ছেলে ছাত্রলীগের ক্যাডার সেলিম আহমদ একাধিক মামলার আসামি। ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকে উঠে আসা সেলিম সিলেট সিটির সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ারুজ্জামানের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত। রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শন ও বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা বাড়তে থাকে। ৫ আগস্টের ঘটনার পর থেকে সেও পলাতক।

‎পরিবারের সদস্যরা জানান,,,নিখোঁজের ঘটনায় থানায় অভিযোগ করার কথা ভাবলেও নিরাপত্তাহীনতা ও প্রতিশোধের আশঙ্কায় পরিবার এখনো অভিযোগ করতে পারেনি। পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রতিদিনই তাদের উদ্বেগ বাড়ছে কদরিছ মিয়া জীবিত না মৃত, কিছুই জানা যাচ্ছে না।

‎এই বিষয়ে ওসমানীনগর উপজেলা প্রশাসনের কাছে জানতে চাইলে তারা বলে আমরা শুনেছি এরকম একজনকে পাওয়া যাচ্ছেনা,তবে লিখিত কোন অভিযোগ পাই নাই। অভিযোগ পেলে প্রোয়োজনিয় ব্যবস্হা গ্রহন করা হবে।

সিলেট-৪ আসনেই আরিফ চৌধুরী চূড়ান্ত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৫, ১১:১৪ অপরাহ্ণ
সিলেট-৪ আসনেই আরিফ চৌধুরী চূড়ান্ত

সিলেট-৪ আসনেই আরিফ চৌধুরী চূড়ান্ত

সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে সিলেট-৪ আসনে বিএনপির প্রাথী হচ্ছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আরিফুল হক চৌধুরী।

বুধবার রাতে আরিফুল হক চৌধুরী নিজেই এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।তবে বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ব্যাপারে কোন ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

গত সোমবার দেশের অন্যান্য আসনের সাথে সিলেটের ৪ টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে বিএনপি। তবে সিলেট-৪ ও সিলেট-৫ আসনে সেদিন কোন প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি।

বিএনপি সূত্রে জানা যায়, আরিফুল হককে দল থেকে একাধিকবার সিলেট-৪ আসনে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। তবে তাতে সম্মত হননি আরিফ। তিনি সবসময়ই সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে সিলেট-১ আসন অথবা সিঠের সিটি নির্বাচনের মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে আসছিলেন।সর্বশেষ সোমবার বিভিন্ন আসনে দলীয় প্রার্থী ঘোষণার পর মঙ্গলবার বিএনপির শীর্ষ নেতবেৃন্দের পক্ষ থেকে জরুরী তলব দিয়ে আরিফকে ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে মঙ্গলবার ও বুধবার আরিফের সাথে দফায় দফায় বৈঠক করেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। এসব বৈঠকে আরিফুল হককে সিলেট-৪ আসনে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি প্রথমে সম্মত হননি বলে জানা গেছে। এরপর বুধবার রাতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তাঁকে বাসায় ডেকে পাঠান।রাতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বাসভবনে চেয়ারপারসন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে আরিফুল হক ওই আসনে নির্বাচন করতে সম্মত হন।সিলেট-৪ আসনে প্রার্থী হওয়ার কথা জানিয়ে ঢাকা থেকে রাতে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, “চেয়ারপারসন আমাদের জাতীয় মুরুব্বী। তাঁর নির্দেশে আমি সিলেট-৪ আসনে নির্বাচন করতে সম্মত হয়েছি। দলের প্রয়োজনে আমি বারবার নির্দেশ পালন করে আসছি। আজকের সিলেট-৪ আসনে নির্বাচন করার আদেশ মাথা পেতে মেনে নিয়েছি।