রাজা ম্যানশন সহ ঝুঁকিতে ১৮ টি ভবন।

সিলেট নগরের প্রাণকেন্দ্র জিন্দাবাজার এলাকায় পুরনো বিপনী বিতান ‘রাজা ম্যানশন’। ২০১৯ সালে কয়েকদফা ভ’মিকম্পের পর নগরে জরিপ চালিয়ে আরও কয়েকটি ভবনের সাথে এই ভবনকেও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। সে সময় ওই ভবন ভেঙে ফেলারও নির্দেশ দেওয়া হয়।
সিটি করপোরেশনের অভিযানের পর কয়েকদিন বন্ধ থাকে রাজা ম্যাশন। এরপর রং পাল্টে হলুদ রূপ ফের খুলে দেওয়া হয় এই মার্কেট। রং পাল্টে এখনও বহাল রয়েছে রাজা ম্যানশন।
একই অবস্থা নগরীর জিন্দাবাজারের আরেক বহুতল ভবন ‘মিতালী ম্যানশন’-এরও। ঝুঁকিপূর্ণের তালিকায় থাকা এ ভবনটির রং পাল্টে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
ছয় বছর আগে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া এসব ভবনের ব্যাপারে এখন নির্বিকার সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। ফলে ভ’মিকম্পের ঝুঁকিপূর্ণ সিলেটে এসব ভবন ক্ষয়ক্ষতির ঝুকি আরও বাড়িয়ে তুলেছে। রোববার আরেকদফা ভ’মিকম্প অনুভ’ত হয় সিলেটে। এতে আবার নতুন করে আলোচনা হচ্ছে এসব ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নিয়ে।
জানা যায়, ২০১৯ সালে কয়েকদফা ভূমিকম্পের পর ঝুঁকি মোকবেলায় সিলেট নগরের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভেঙে ফেলা, সব বহুতল ভবনের ভূমিকম্পসহনীয়তা পরীক্ষাসহ কিছু উদ্যোগ নেয় সিটি করপোরেশন। তখন কয়েকটি ভবন বিশেষজ্ঞদের পরীক্ষার পর নগরের ২৫ টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা প্রকাশ করে সিসিক।
ওইদিনই নগরের সুরমা মার্কেট, সিটি সুপার মার্কেট, মধুবন সুপার মার্কেট, সমবায় মার্কেট, মিতালী ম্যানশ্যান ও রাজা ম্যানশন নামের ৭টি বিপনী বিতানকে ১০ দিন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সময়ে নগরের প্রায় ৪২ হাজার বহুতভবন পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছিল সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। কিন্তু অর্থ সংকটে সেই উদ্যোগ আর এগোয়নি। আর নির্ধারিত ১০ দিন পর কোনো সংস্কার ছাড়াই খুলে দেওয়া হয় বন্ধ করা ভবনগুলো। এখনো এগুলোতে স্বাভাবিক কার্য
ক্রম চলছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সিলেটের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অন্তত ৭টি ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলই ছিল সিলেট বিভাগের, গোলাপগঞ্জ, জগন্নাথপুর, মাইঝবাগ ও নবীগঞ
এ ব্যাপারে সিলেট সিটি কর্পোরেশন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার বলেন, ‘সিলেট মহানগরীতে যে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো রয়েছে সেই ভবনগুলোর সংস্কার কার্যক্রমের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আমরা খুব শীঘ্রই একটি পদক্ষেপ নেব। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বিষয়ে একটি কমিটি আছে, তারা তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। যে ভবনগুলোতে সংস্কার করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তারা তাদের সংস্কার কার্যক্রম শেষ করে আমাদের কাছে তাদের কাগজপত্রাদি দাখিল করবে, আমরা সেটা খতিয়ে দেখে পরবর্তী নির্দেশনা দেব।’
আবহাওয়া অধিদপ্তর সিলেটের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অন্তত ৭টি ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলই ছিল সিলেট বিভাগের, গোলাপগঞ্জ, জগন্নাথপুর, মাইঝবাগ ও নবীগঞ্জে। এছাড়াও গেল দুই বছরে সিলেট ও এর পার্শবর্তী অঞ্চলে প্রায় দেড় শতাধিকের চেয়ে বেশি ভুমিকম্প অনুভুত হয়েছে বলে জানিয়েছে সিলেটের আবহাওয়া অফিস।


আপনার মতামত লিখুন