তীব্র সমালোচনার মুখে আলী আমজদের ঘড়িঘর চত্বর থেকে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ সরানো হয়েছে।

তীব্র সমালোচনার মুখে আলী আমজদের ঘড়িঘর চত্বর থেকে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ সরানো হয়েছে।
রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নগরের চাঁদনীঘাট এলাকায় গিয়ে ঘড়িঘর চত্বরে নির্মাণাধিন ওই স্মৃতিস্তম্ভ দেখা যায়নি। এটি আগেই সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই এলাকার কয়েকজন।
এরআগে গত ২ সেপ্টেম্বর সিলেটের কয়েকজন বিশিষ্ট নাগরিকদের সাথে জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের বৈঠকে ঘড়িঘর থেকে এই স্থাপনাটি সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সিলেটের ১৫১ বছরের ঐতিহ্যবাহী আলী আমজদের ঘড়িঘরে ভেতরে জুলাইয়ের শহীদদের স্মরণে স্মৃতিফলক ‘স্ট্রিট মেমোরি স্ট্যাম্প’ নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার অংশবিশেষ আড়াল করে স্মৃতিফলক নির্মাণের বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা দেখা দেয়।
এই স্থাপনা নির্মাণ বন্ধের দাবিতে সম্প্রতি সিলেটের জেলা প্রশাসকের কাছে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা, সংক্ষুব্দ নাগরিক আন্দোলন, পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
যে কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার কারণে সিলেটের মানুষ গর্ব অনুভব করেন, এর একটি হচ্ছে ১৮৭৪ সালে স্থাপিত আলী আমজদের ঘড়ি। আরও কয়েকটি স্থাপনার সঙ্গে এটি ‘সিলেটের প্রতীক’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এ ঘড়িঘরের বেষ্টনীর মধ্যেই নির্মাণ করা হচ্ছে স্মৃতিফলক। এতে ঘড়িঘরের প্রকৃত স্থাপত্যশৈলী আড়ালে পড়ে যাচ্ছে, এমনটাই দাবি সমালোচনাকারীদের।
সিলেট নগরের সুরমা নদীর পাড় আর সারদা হলের মাঝখানে শহরের জিরোপয়েন্ট। তার ঠিক ১০০ মিটারের মধ্যেই আলী আমজদের ঘড়ির অবস্থান। কিনব্রিজ পার হয়ে শহরের উত্তর অংশের ঠিক প্রবেশমুখে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে এটি ১৮৭৪ সাল থেকে। ওই বছর তৎকালীন বড়লাট লর্ড নর্থব্রুক সিলেটে সফরে এসেছিলেন। তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার পৃত্থিমপাশার জমিদার নবাব আলী আহমদ খান ঘড়িটি নির্মাণ করেন। নামকরণ করেন নিজের ছেলে আলী আমজদ খানের নামে।


আপনার মতামত লিখুন