জেলা প্রশাসকের প্রত্যাহার দাবি চালিয়ে যাবেন আরিফ,

সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদকে ৫ জুলাইয়ের মধ্যে প্রত্যাহারের যে দাবি জানিয়েছেন, সে দাবিতে এখনও অনড় আছেন বলে জানিয়েছেন, সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আরিফুল হক চৌধুরী।
অপরদিকে, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ জানিয়েছেন, আরিফুল হক কেন হঠাৎ এই দাবি জানিয়েছেন তা তিনি জানেন না।
বুধবার (২ জুলাই) সকালে সিলেট নগরের কোর্ট পয়েন্টে সমাবেশ করে ডিসি মুরাদকে প্রশাসনিকভাবে ‘অদক্ষ ও ব্যর্থ’ আখ্যা দিয়ে করে তার প্রত্যাহার দাবি করেন আরিফ।
ওই সমাবেশে পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়া, স্টোন ক্রাশার মিলের বিরুদ্ধে অভিযান বন্ধ, জালালাবাদ চক্ষু হাসপাতালের মার্কেট ভাঙা বন্ধসহ আরিফ বিভিন্ন দাবি জানালেও নিজের বক্তৃতার বেশিরভাগ অংশজুড়ে আরিফ মূলত জেলা প্রশাসকের প্রতি বিষোদগার করেন।
এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আরিফুল হক চৌধুরী সিলেটটুডেকে বলেন, ‘‘কালকের (বুধবারের) সমাবেশের পর প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের অনেকেই আমার সাথে যোগাযোগ করছেন। তবে আমি ‘যেটা কইছি, কইছিই’ (যা বলছি, বলছিই)। এই ডিসিকে প্রত্যাহার করতে হবে। তার কারণে সিলেটের সব মানুষ অতিষ্ঠ।’’
এদিকে আরিফুল হক চৌধুরীর বুধবারের সমাবেশের বক্তব্য প্রসঙ্গে ডিসি মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ বৃহস্পতিবার সিলেটটুডেকে বলেন, তিনি কেন এমনটি বলেছেন তা আমি জানি না। এ ব্যাপারে তিনিই ভালো বলতে পারবেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমরা কোন চাপ অনুভব করছি না। সরকারের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতেই পাথর ভাঙার যন্ত্রের বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে। পাথর উত্তোলন ও অবৈধ স্টোন ক্রাশার মেশিনের বিরুদ্ধে যে অভিযান চলছে তা অব্যাহত আছে। আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। সরকারের কাজ নিজের গতিতেই চলবে।’
এরআগে বুধবার কোর্ট পয়েন্টের সমাবেশে জেলা প্রশাসকের উদ্দেশ্যে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, জেলা প্রশাসক, আপনি যদি মনে করেন, আমাদের মধ্যে বিভাজন করার পায়তারা যেটা করছেন, দুএকজন নেতাকে বশ করে আপনি মনে করবেন না পার পেয়ে যাবেন। আমাদের স্বার্থের বিরুদ্ধে যারা যাবে তারা জেলা প্রশাসকের দালাল হিসেবে চিহ্নিত হবে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সিলেটের পাথরকোয়ারিগুলো ইজারা দিয়ে এবং পাথর ভাঙার যন্ত্রের বিদ্যুৎ-সংযোগ আবার চালুর দাবিতে সম্প্রতি পাথর–সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী-শ্রমিকেরা কর্মবিরতি, পরিবহন বন্ধ রাখাসহ নানা কর্মসূচি পালন করছেন। এমন পরিস্থিতিতে করণীয় নির্ধারণে রাজনৈতিক নেতা, পাথর–সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের নিয়ে দুপুর ১২টার দিকে বৈঠকে বসেন ডিসি। সেই বৈঠকে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জেলা জামায়াতের আমির হাবিবুর রহমান ও সেক্রেটারি জয়নাল আবেদীন, মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি মো. শাহজাহান আলীসহ পাথর–সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও শ্রমিক প্রতিনিধিরা উপস্থিত আছেন।
তবে ওই বৈঠকে আরিফুল হক চৌধুরীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে জানা গেছে।
এদিকে, কোর্ট পয়েন্টের সমাবেশ থেকে আরিফুল হক এ কর্মসূচিকে শ্রমিক, মালিক ও ব্যবসায়ীদের অধিকার আদায়ের কর্মসূচি বলে ঘোষণা দেন। কর্মসূচিতে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ–সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের পাশাপাশি পরিবহন শ্রমিকনেতারাও যোগ দেন।
সমাবেশ থেকে পরিবহনমালিক ও শ্রমিকনেতারা শুক্রবারের মধ্যে সিলেটের ডিসিকে অপসারণ না করলে শনিবার থেকে সিলেটের সব সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেন।

সমাবেশ চলাকালে আরিফুল হক বলেন, সম্প্রতি কোনো ধরনের নোটিশ ছাড়াই জেলার বিভিন্ন স্থানে পাথর ভাঙার যন্ত্রের (ক্রাশার মেশিন) ব্যবসায়ীদের বৈধ বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার কাজ শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। কোনো ধরনের সময় কিংবা নোটিশ না দিয়ে নগরের মেজরটিলা এলাকায় রাস্তার পাশে থাকা বিভিন্ন স্থাপনা উচ্ছেদও করা হয়েছে। ডিসি এই অঞ্চলের ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নষ্ট করছেন। তাই ভুক্তভোগী বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ী ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ একত্র হয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে ডিসিকে প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছেন।


আপনার মতামত লিখুন